![]() |
| ছবি: সংগৃহীত। |
নির্বাচনি প্রচারে পাল্টাপাল্টি বক্তব্যের মধ্যেই বিএনপির বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ নিয়ে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) নালিশ করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সোমবার প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে অভিযোগগুলো তুলে ধরে এনসিপির একটি প্রতিনিধি দল।
এনসিপির অভিযোগ, একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দল পূর্বপরিকল্পিতভাবে কয়েকটি দলের নেতাকর্মীদের ওপর ধারাবাহিক হামলা চালাচ্ছে। এসব ঘটনায় কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় সুষ্ঠু ও সমান প্রতিযোগিতার পরিবেশ (লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড) নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি হচ্ছে।
নির্বাচন ভবনে সিইসির সঙ্গে বৈঠক শেষে এনসিপির কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব আয়মান রাহাত সাংবাদিকদের বলেন, শেরপুরে জামায়াতের এক নেতা বিএনপি নেতাকর্মীদের হামলায় নিহত হলেও এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। উল্টো ওই ঘটনার আসামিদের আগাম জামিন দেওয়া হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট ইউএনও ও ওসিকে বদলি করা হলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা দেখা যাচ্ছে না। এতে হামলাকারীরা আরও উৎসাহিত হচ্ছে।
তিনি বলেন, হাতিয়াসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় একই ধরনের ঘটনা ঘটছে। এসব বিষয়ে ইসিকে অবহিত করা হলেও কমিশনের নিয়ন্ত্রণ ও ভূমিকা দৃশ্যমান নয়। হামলাগুলো পরিকল্পিতভাবে ঘটানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
আয়মান রাহাত আরও বলেন, হামলার পর মামলা হলেও যদি সে অনুযায়ী ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তাহলে একটি পক্ষ যা খুশি তাই করতে পারবে। এতে অন্য রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য নির্বাচনে অংশ নেওয়ার পরিবেশ নষ্ট হবে।
তার ভাষ্য, সারা দেশে হামলার ঘটনাগুলোর একটি স্পষ্ট প্যাটার্ন রয়েছে—একটি নির্দিষ্ট দল নির্দিষ্ট কয়েকটি দলের ওপর হামলা চালাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে সরকার ও নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে কঠোর অবস্থান নেওয়া জরুরি।
এনসিপির অভিযোগ অনুযায়ী, বিএনপির সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলতাফ হোসেন চৌধুরী এক জনসভায় প্রকাশ্যে বলেছেন, তাদের প্রার্থী বাছাইয়ে পুলিশ, এনএসআই ও ডিজিএফআইয়ের জরিপ ব্যবহার করা হয়েছে। আয়মান রাহাত বলেন, রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ তিনটি সংস্থা যদি কোনো একটি দলের প্রার্থী বাছাইয়ে যুক্ত থাকে, তাহলে নির্বাচনে তাদের নিরপেক্ষতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন ওঠে।
তিনি আরও বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কৃষিঋণ মওকুফের ঘোষণার পর বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন পরিচালক ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে বিভিন্ন ব্যাংকে ঋণগ্রহীতাদের তথ্য চেয়ে চিঠি পাঠিয়েছেন। একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়নে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের এমন ভূমিকা নির্বাচনী পরিবেশকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে দ্রুত প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়েছে।
বৈঠকে গণভোট ইস্যুতে অপপ্রচার নিয়েও উদ্বেগ জানিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্যের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনকে কঠোর অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানায় এনসিপি।
এছাড়া জামায়াতের নারী কর্মীদের ওপর হামলা ও অনলাইনে হয়রানির ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে নারী প্রার্থীদের জন্য নিরাপদ নির্বাচনী পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবিও তোলা হয়।
ব্রিফিংয়ে এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব আকরাম হোসাইন এবং আইনজীবী হুমায়রা নূর উপস্থিত ছিলেন।

0 Comments